হাদীস সঙ্কলণের ইতিহাস

ইসলামী জীবন বিধান দুইটি মৌল বুনিয়াদের উপর স্থাপিত। একটি কুরআন, অপরটি হাদীস। দু:খের বিষয় যে মুসলমানদের জীবনকে রাসূলে আকরাম সা: এর জীবন ও কর্মধারা হইতে বিচ্ছিন্ন করা ও ইসলামকে একটি নিষ্প্রাণ ও স্থবির ধর্মে পরিণত করার লক্ষ্যে হাদীসের প্রামাণিকতা ও বিশুদ্ধতা এবং ইহার সংকলন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে একটা সন্দেহের ধূম্রজাল সৃষ্টির অপচেষ্টা চলিয়া আসিতেছে সূদীর্ঘকাল হইতে। এই সর্বনাশা চক্রান্তের মুকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই ভূখন্ডের বিশিষ্ট হাদীস বিশেষজ্ঞ শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ আবদুর রহীম ষাটের দশকের প্রথমভাগে এই গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। প্রায় অর্ধযুগের ব্যাপক অধ্যয়ণ ও গবেষণার ফসল এই মূল্যবান গ্রন্থে হাদীসের সংকলন, লিপিবদ্ধকরণ ও সংরক্ষণ এবং হাদীস শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে হাদীস বিরোধীদের সকল কূট-প্রশ্নের  তিনি বিস্তৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ জওয়াব দিয়েছেন।

ইসলামী জাগরণের তিন পথিকৃৎ

বিংশ শতাব্দীতে ইসলামী জাগরণের জন্য যারা ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হচ্ছেন শায়খ হাসানুল বান্না (রহ), বাদীউজ্জামান নুরসী (রহ) ও সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ)। নাস্তিকতাবাদ, অংশীবাদ ও ধর্ম্নিরপেকক্ষতাবাদ-সৃষ্ট তাত্বিক বিভ্রান্তি দূরকরণে তারা মূল্যবান অবদান রেখেছেন। সৃষ্টি করেছেন ইসলামী জাগরণ।

ইউরো-আমেরিকান জীবন দর্শনে বিশ্বাসী শাসকগোষ্ঠী তাদেরকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের চলার পথে, বারবার তাদেরকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে, উচ্চমানের সবর অবলম্বন করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় তারা প্রতিটি বাঁধার মুকাবিলা করেছেন অকুতোভয় বীরের মত।

শহীদ আব্দুল মালেক রচনাবলী

চেকোস্লাভিয়া, সিরিয়া, নাইজেরিয়া, চীন-রাশিয়া সীমান্ত সংঘাত, ভিয়েতনাম ও ফ্রান্সের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুদান, মালয়েশিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ততকালীন অবস্থা সম্পর্কে আব্দুল মালেকের লেখাগুলি এবং বেশ কিছু মৌলিক প্রবন্ধ ও আব্দুল মালেকের শাহাদাতের পরে কবি ফররূখ আহমেদ ও পরবর্তিতে কবি আল মাহমুদের লেখা কবিতা নিয়ে এ সঙ্কলন তৈরী করা হয়েছে।

মে ১৯৪৭ এ বগুড়ার ধূনট থানার খোকসাবাড়ি গ্রামে জণ্মগ্রহণ করেন আব্দুল মালেক। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের পাঠশালা (খোকসাবাড়ি স্কুল), ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত গোসাইবাড়ি হাইস্কুলে, পরবর্তীতে বগুড়া জেলা গভ: হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি ও রাজশাহী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। ১৯৬০ সালে জুনিয়র স্কলারশীপ বৃত্তি, ১৯৬৩ সালে এস.এস.সি. পরীক্ষায় অংক ও রসায়নে লেটারসহ রাজশাহী বোর্ডে একদশ স্থান অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে রাজশাহী সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে লেটারসহ মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন আব্দুল মালেক।

আযাদী আন্দোলন - ১৮৫৭


আন্দামান দীপপুঞ্জ বঙ্গোপসাগর থেকে বেশী দূরে নয়। মাওলানা ফজলে হক খায়রাবাদী ১৮৫৯ সালে নির্বাসিত হন আন্দামানে।আস্ সাওরাতুল হিনদীয়া এবং কাসিদাতু ফিতনাতুল হিন্দ-এ দুটি ছিল তার সেই বন্দী জীবনের দিনলিপি। এসব তিনি কাফনের কাপড়ে, টুকরা কাগজে লিখে রেখেছিলেন। মুফতী এনায়েত কাকুরী অনেক আগেই নির্বাসিত হয়েছিলেন ,তাকবীমুল বুলদান নামে একটি বই অনুবাদ করে কোন এক রাজ-কর্মচারীর সু-দৃষ্টিলাভ করেছিলেন এবং পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।



মুফতী সাহেব চলে যাওয়ার সময় তার হাতে মাওলানা খায়রাবাদী সেই কাফনের কাপড় ও কিছু কাগজের টুকরা দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন এগুলো যেন তার সুযোগ্য পুত্র আব্দুল হক খায়রাবাদীর নিকট পৌছে দেন। ইংরেজ আমলেই এটা প্রকাশিত হয়েছিল। মাওলানা আব্দুল হক্ক ও মাওলানা সামসুল হক্ক খায়রাবাদী পিতার মুক্তির জন্য বিলেতের প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করেন । অন্য দেশের সুধী সমাজ শিল্পি-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ হতেও সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদন পেশ হতে থাকে ।

ক্রুসেড-সিরিজ (গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী)

http://1.bp.blogspot.com/-27S4SJjMunA/T4L-CvgqH0I/AAAAAAAABAw/sJ8BkZXTd8g/s1600/Crusade%2BGazi%2BSalahUddin%2BAsad%2BBin%2BHafiz.jpg
গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। অসামান্য এক সেনানায়ক। জীবনের অধিকাংশ সম কেটেছে তার ঘোড়ার পিঠে, পাহাড়ে আর মরুভূমিতে, যুদ্ধের মাঠে। আজ থেকে হাজার বছর আগে বিশ্বব্যাপী যে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেড শুরু হয়েছিলো সে ক্রুসেডের মোকাবেলা করেছিলেন তিনি। বিচক্ষণ, দুরদর্শী ও কুশলী সমরনায়ক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো বিশ্ব জুড়ে। শত্রু -মিত্র নির্বিশেষে মানুষের জন্য তার দরদ ও মহানুভবতা ছিল কিংবদন্তীতুল্য।

কেবল সশস্ত্র সংঘাত নয়- কুটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সে যুদ্ধ ছিল সর্বপ্লাবী। ইসলামকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চক্রান্তে মেতে উঠেছিলো নাসারারা। একে একে লোমহর্ষক অসংখ্য সংঘাত ও সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে বেছে নিয়েছিলো ষড়যন্ত্রের পথ। মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছিলো গুপ্তচর বাহিনী। বেহায়াপনা ও চরিত্র হননের স্রোত বইয়ে দিয়েছিলো মুসলিম দেশগুলোর সর্বত্র। একদিকে সশস্ত্র লড়াই, অন্যদিকে কুটিল সাংস্কৃতিক হামলা - এ দুয়ের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আইয়ুবী। তিনি মোকাবেলা করেছিলেন এমনসব অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার - মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। ক্রুসেড সিরিজ অবলম্বনে আসাদ বিন হাফিজ রচনা করেছেন গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সেই বর্ণাঢ্য জীবনকাহিনী নির্ভর অসামান্য উপন্যাস - মহাকালের মহানায়ক।





ডাউলোড
-->
সাধারণ কোয়ালিটি (৩৩ mb) 

ক্রুসেড-সিরিজ (মহাকালের মহানায়ক গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী)


উন্নত কোয়ালিটি (৭২ mb)
ক্রুসেড-সিরিজ (মহাকালের মহানায়ক গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী)
 

পেজ-ভিউ

অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা - মেজর জলিল

লেখক পরিচিতি :

পারিবারিক নাম মোহাম্মদ আবদুল জলিল। বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় জন্ম। পিতা জনাব আলী চৌধুরীর মৃত্যুর ৩মাস পরে উজিরপুর সদরেই অবস্থিত মামার বাড়ীতে জন্ম। শিশুকাল এবং কৈশোর মামদের পরম স্নেহেই কাটে। উজিরপুরের W.B. UNION INSTITUTION থেকে কৃতিত্বের সংগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এ সময়ে ‘পথের কাঙাল’ এবং ‘রীতি’ নামক দু’খানা উপন্যাস রচনা করেন। পরে পান্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেন। ১৯৬১ সনে ‘Y’ Cadet স্কীমের অধীনে পশ্চিম পাকিস্তানের ‘মারী হিলস’(রাওয়ালপিন্ডি জেলায়) ভর্তি হন। কৃতিত্বের সংগে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীন্ন হন। ১৯৬৩ সনে পাকিস্তানী মিলিটারী একাডেমী কাকুলে সামরিক বাহিনীর অফিসার কাম ট্রেনিং- এ যোগদান করেন। ১৯৬৫ সনের সেপ্টেম্বর মাসে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে ১২ নং ক্যাভালরী রেজিমেন্ট (ট্যাঙক বাহিনী) যোগদান করে

ইসলাম ও জিহাদ

জিহাদ একটি অবশ্য পালনীয় কর্তব্য : জিহাদ প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে ওয়াজিব। আল্লাহর দৃষ্টিতে জিহাদের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর দীনের যারা মুজাহিদ এবং যারা তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেন তাঁদের জন্যে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্তু পুরস্কার। তিনি তাদেরকে এমন সম্মান-সম্ভ্রম ও মর্যাদা দান করেছেন, যা আর কাউকে দান করেননি। শহীদানের পূত-পবিত্র রক্ত আল্লাহর হুজুরে বিজয় ও সাহায্যের নিদর্শন বই আর কিছু নয় এবং আল্লাহর দরবারে তাঁদের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের এটিই হচ্ছে মৌল মাপকাঠি। জিহাদ ফি সাবিলিল্লায় যারা পিছ পা হয় আল্লাহর কাছে রয়েছে তাদের জন্যে ভয়াবহ পরিণাম এবং তারা অপমানিত ও ঘৃণিত। আল্লাহ কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন জিহাদের ভয়ে ভীত কাপুরুষ মুসলমানদেরকে। দুনিয়াতে তাদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপমান, আর আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এমনকি সোনার পাহাড়ের বিনিময়েও তারা এ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। জিহাদ না করা আল্লাহর দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। কোনো জাতি না করা আল্লাহর দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। কোনো জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্যে জিহাদ পরিত্যাগ করা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার শামিল।

সত্য ও ন্যায়ের জন্যে সংগ্রাম, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ এবং পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের ওপর ইসলাম সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। দুনিয়ার অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ এসব বিষয়ের ওপর এত বেশী জোর দেয়নি। এমনতর বিধি-ব্যবস্থা অতীতে বা বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন বা ধর্মে অনুসন্ধান করলে পাওয়া যাবে না। আল্লাহর কুরআন ও রাসূল (সা) এর হাদীস জিহাদের শিক্ষায় ভরপুর। ইসলাম আমাদেরকে জিহাদের আহ্বান জানায়, মুজাহিদ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে এবং জিহাদের জন্যে প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ ও অস্ত্র-শস্ত্র সংগ্রহের নির্দেশ দান করে।

বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা) জিহাদ সম্পর্কে যে সমস্ত মূল্যবান হেদায়াত দিয়েছেন তা সংক্ষেপে আলোচনা করবো। এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত কুরআনুল কারীমের পবিত্র আয়াত ও হুজুর (সা) এর হাদীসমসূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যাদান আমাদের উদ্দেশ্যে নয়। কারণ এ সম্পর্কিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যুক্তিযুক্ত ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ এবং তাতে কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ নেই।

আল্লাহর পথে জিহাদ :

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয় নবী, সরদারে মুজাহিদীন, ইমামুল মুত্তাকীন হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সা) এবং তাঁর আহলে বায়েত ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।



লেখক : শহীদ হাসানুল বান্না

পেইজভিউ

ইসলামী বিপ্লবের পথ

“গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা তো সেইসব লোকদের হাতেই আসবে, যারা ভোটারদের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হবে। ভোটারদের মধ্যে যদি ইসলামী চিন্তা ও মানসিকতাই সৃষ্টি না হয়, যথার্থ ইসলামী নৈতিক চরিত্র গঠনের আগ্রহই যদি তাদের না থাকে এবং ইসলামের সেই সুবিচারপূর্ণ অলংঘনীয় মূলনীতিসমূহ তারা মেনে চলতে প্রস্তুত না হয়, যেগুলোর ভিত্তিতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তবে তাদের ভোটে কখনো খাঁটি মুসলমান নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে আসতে পারবে না।”

“এ কাজের জন্যে এমন একদল দুঃসাহসী যুবকের প্রয়োজন, যারা সত্যের প্রতি ঈমান এনে তার উপর পাহাড়ের মতো অটল হয়ে থাকবে। অন্য কোনো দিকে তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হবেনা। পৃথিবীতে যা-ই ঘটুক না কেন, তারা নিজেদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের পথ থেকে এক ইঞ্চিও বিচ্যুত হবেনা।”

দুটি কথা

উমর বিন খাত্তাব রা: এর ঢাকা সফর


এক জ্যোতির্ময় পুরুষ। চোখে মুখে অপূর্ব নুরানী আভা। চেহারায় প্রখর ব্যক্তিত্ব। চোখে সংকল্প ও দৃঢ়তার সুষ্পষ্ট ছাপ। পরনে সাদামাটা কাপড়।..
সারাদিন ঢাকার রাস্তায় ঘুরলেন তারা। বিভিন্ন স্থানে গেলেন। যুবক খুব ক্লান্তি বোধ করলো। ক্ষুধা পেলো। কিন্তু ক্ষুধার কথা অতিথিকে জানতে দিলনা। খুব সংকোচ বোধ করলেন।..

রাস্তা ধারে প্রেক্ষাগৃহ। আধুনিক কায়দায় নির্মিত বিল্ডিং। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হল। প্রশস্ত লন। ...অতিথি বল্লেন, এদের কি কোন কাজকর্ম নেই? ছন্নছাড়ার দল। যুবক বললো , শো এখন ভাঙেনি। অতিথি জিজ্ঞেস করলো, কিসের শো? যুবক বল্লো ছায়াছবি। অতিথি উৎসুক্য সহকারে জিজ্ঞেস করলো , কিসের ছায়ছবি? যুবক বল্লো প্রেম কাহিনীর চিত্ররূপ। অতিথি বললেন, একজনের প্রেমের চিত্র অন্যজন দেখে কি করে? এটা তো বর্বরতা!

অতিথি বললেন, তোমাদের দেশ ধনী, কিন্তু তোমরা গরীব। ভুখা মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভরপুর। যে দেশের অধিকাংশ মানুষ না খেয়ে আছে সে দেশের মানুষ কি করে ভোগ বিলাসে অর্থ ব্যায় করে?

বিষ্ময় ও বিরক্তি নিয়ে অতিথি জিজ্ঞেস করলেন, এত লোক এভাবে রাস্তায় শুয়ে আছে কেন? এরা কারা? যুবক বললেন, এরা সর্বহারা। কোন ঠাঁই নেই এদের। ফুটপাথই এদের বাড়িঘর। অতিথি ধমক দিয়ে বললেন, যুবক ! কি বলছো তুমি?


(বইটির প্রথম দিকের কয়েকটা পাতা ক্ষতিগ্রস্থ)




ডাউলোড 



ফেসবুকে আমাদের লাইক করুন










পেজ-ভিউ

জিহাদের হাকীকত

জিহাদের উদ্দেশ্য-প্রথম অংশ

নমায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত সম্পর্কে ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ৷ সেই আলোচনা প্রসঙ্গে বার বার আমি বলেছি যে, এসব ইবাদত অন্যান্য ধর্মের ইবাদতের ন্যায় নিছক পূজা, উপাসনা এবং যাত্রার অনুষ্ঠান মাত্র নয়; কাজেই এ কয়টি কাজ করে ক্ষান্ত হলেই আল্লাহ তা'আলা কারো প্রতি খুশি হতে পারেন না ৷ মূলতঃ একটি বিরাট উদ্দেশ্যে

মুসলমানদেরকে প্রস্তুত করার জন্য এবং একটি বিরাট দায়িত্বপূর্ণ কাজে তাদেরকে সুদক্ষ করার উদ্দেশ্যেই এসব ইবাদত মুসলমানদের প্রতি ফরয করা হয়েছে৷ এটা মুসলমানকে কিভাবে সেই বিরাট উদ্দেশ্যর জন্য প্রস্তুত করে এবং এর ভিতর দিয়ে মুসলমান কেমন করে সেই বিরট কাজের ক্ষমতা ও যোগ্যতা লাভ করে, ইতিপূর্বে তা আমি বিস্তারিত রূপে বলেছি ৷ এখন সেই বিরাট উদ্দেশ্যের বিশ্লেষণ এবং তার বিস্তারিত পরিচয় দানের চেষ্টা করবো ৷

এ বিষয়ে সংক্ষেপে বলা যায় যে, মানুষের উপর থেকে গায়রুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য শক্তির) প্রভুত্ব বিদূরিত করে শুধু আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েম করাই এসব ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য এবং এ উদ্দেশ্য লাভের জন্য মন-প্রাণ উৎসর্গ করে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করার নামই হচ্ছে জিহাদ ৷ নামায, রোযা ও যাকাত প্রভৃতি ইবাদাতের কাজগুলো মুসলমানকে এ কাজের জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুত করে৷ কিন্তু মুসলমানগণ যুগ যুগ ধরে এ মহান উদ্দেশ্য ও বিরাট কাজকে ভুলে আছে৷ তাদের সমস্ত ইবাদাত বন্দেগী নিছক অর্থহীন অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ৷ তাই আমি মনে করি যে, জিহাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, এর অন্তর্নিহিত বিরাট লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবহিত হওয়ার জন্য কিছুমাত্র যথেষ্ট নয় ৷ সে জন্য বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা আবশ্যক ৷

দুনিয়ায় যত পাপ, অশান্তি আর দুঃখ-দুর্দশা স্থায়ী হয়ে রয়েছে, তার মূল কারণ হচ্ছে রাষ্ট্র এবং শাসন ব্যবস্থার মূলগত দোষ-ত্রুটি, শক্তি এবং সম্পদ সবই সরকারের করায়ত্ব থাকে ৷ সরকারই আইন রচনা করে এবং জারী করে ৷ দেশের নিয়ম-শৃংখলা রক্ষা, শাসন ইত্যাদির যাবতীয় ক্ষমতা সরকারেরই একচ্ছত্র অধিকারের বস্তু। পুলিশ ও সৈন্য-সামন্তের শক্তি সরকারের কুক্ষিগত হয়ে থাকে ৷ অতএব, এতে আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না যে, যা কিছু অশান্তি এবং পাপ দুনিয়ায় আছে তা হয় সরকার নিজেই সৃষ্টি করে, নতুবা সরকারের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সাহায্য ও সমর্থনে তা অবাধে অনুষ্ঠিত হতে পারছে ৷ কারণ দেশের কোন জিনিসের প্রচার ও স্থায়িত্ব লাভের জন্য যে শক্তির আবশ্যক তা সরকার ছাড়া আর কারো থাকতে পারে না ৷ চোখ খুলে তাকালেই দেখতে পাওয়া যায়, দুনিয়ার চার দিকে ব্যভিচার অবাধে অনুষ্ঠিত হচ্ছে---- দালান কোঠায়, বাড়ীতে প্রকাশ্যভাবে এ পাপকার্য সম্পন্ন হচ্ছে৷ কিন্তু এর কারণ কি? এর একমাত্র কারণ এই যে, রাষ্ট্র ও সরকার কতৃর্পক্ষের দৃষ্টিতে ব্যভিচার বিশেষ কোন অপরাধ নয়৷ বরং তারা নিজেরাই এ কাজে লিপ্ত হয়ে আছে এবং অন্যকেও সে দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ৷ নুতবা সরকার যদি এ পাপানুষ্ঠান বন্ধ করতে চায়, তবে এটা এত নির্ভিক ভাবে চলতে পারে না ৷ অন্যদিক সুদের কারবার অব্যাহতভাবে চলছে ৷ ধনী লোকগণ গরীবদের বুকের তাজা-তপ্ত রক্ত শুষে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে ৷ কিন্তু প্রশ্ন এই যে, এটা কেমন করে হতে পারছে? শুধু এই যে সরকার নিজেই সুদ খায় এবং সুদখোরদের সাহায্য ও সমর্থন করে৷

সরকারের আদালতসমূহ সুদের ডিক্রী দেয় এবং তাদের সহায়তা পায় বলে চারদিকে বড় বড় ব্যাংক আর সুদখোর মহাজন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে৷ বর্তমান সময়ে দুনিয়ায় বিভিন্ন দেশে ও সমাজে লজ্জাহীনতা ও চরিত্রহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷ এরও একমাত্র কারণ এই যে, সরকার নিজেই লোকদেরকে এরূপ শিক্ষা দিচ্ছে এবং তাদের চরিত্রকে এরূপেই গঠন করছে৷ চারিদিকে মানব চরিত্রের যে নমুনা দেখা যাচ্ছে, সরকার তাই ভালবাসে ও পছন্দ করে ৷ এমতাবস্থায় জনগণের মধ্যে যদি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কোন শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের চেষ্টা করতে চায় তাতে সফলতা লাভ করা সম্ভব হতে পারে না৷ কারণ, সে জন্য যে উপায়-উপাদান একান্ত অপরিহার্য তা সংগ্রহ করা বেসরকারী লোকদের পক্ষে সাধারণতঃ সম্ভব হয় না৷

আর বিশেষ প্রচেষ্টার পর তেমন কিছু লোক তৈরী করতে পারলেও প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তাদের নিজ নিজ আদর্শের উপর সুদৃঢ়ভাবে টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে৷ যেহেতু জীবিকা উপার্জেনের যত উপায় আছে এবং এই ভিন্নতর চরিত্র-বিশিষ্ট্য লোকদের বেঁচে থাকার যত গুলো পন্থা থাকতে পারে, তার সবগুলোই বন্ধ দরজার চাবিকাঠি সাম্প্রতিক বিকৃত ও গোমরাহ্ সরকারের হাতেই নিবদ্ধ রয়েছে৷ দুনিয়ায় সীমা-সংখ্যাহীন খুন-যখম ও রক্তপাত হচ্ছে৷ মানুষের বুদ্ধি এবং জ্ঞান আজ গোটা মানুষকে ধ্বংস করার উপায় উদ্ভাবনেই নিযুক্ত হয়ে আছে৷ মানুষের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমলব্ধ প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী আজ আগুনে জ্বালিয়ে ভষ্ম করা হচ্ছে৷ মানুষের অসংখ্য মূল্যবান জীবনকে মূল্যহীন মাটির পাত্রের ন্যায় অমানুষিকভাবে সংহার করা হচ্ছে৷ কিন্তু এটা কেন হয়? হওয়ার কারণ শুধু এটাই যে, মানব সন্তানের মধ্যে যারাই সর্বপেক্ষা বেশী শয়তান প্রকৃতির ও চরিত্রহীন, তারাই আজ দুনিয়ার জাতিসমূহের 'নেতা' হয়ে বসেছে এবং কর্তৃত্ব ও প্রভুত্বের সার্বভৌম শক্তি নিজেদরাই কুক্ষিগত করে নিয়েছে ৷ আজ শক্তি সামগ্রিকভাবে তাদের করতলগত, তাই তারা আজ দুনিয়াকে যে দিকে চালাচ্ছে দুনিয়া সে দিকেই চলতে বাধ্য হচ্ছে ৷ জ্ঞান-বিজ্ঞান, ধন-সম্পদ, শ্রম মেহনত এবং জীবন ও প্রাণের ব্যবহার এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা যা কিছু নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, তাতেই আজ সব উৎ‌সর্গীকৃত হচ্ছে ৷ দুনিয়ায় আজ যুলুম ও অবিচারের প্রবল রাজত্ব চলছে ৷ দুর্বলের জীবন বড়ই দুঃসহ হয়ে পড়েছে ৷ এখানকার আদালত বিচারালয় নয় এটা আজ বানিয়ার দোকান বিশেষে পরিণত হয়েছে ৷ এখানে আজ কেবল টাকা দিয়ে 'বিচার' ক্রয় করা যায়৷ মানুষের মাঝ থেকে আজ জোর-যবরদস্তি করে ট্যাক্স আদায় করা হয়৷ সেই ট্যাক্সের পরিমাণেও কোন সীমাসংখ্যা নেই এবং সরকার তা উচ্চ কর্মচারীদেরকে রাজকীয় বেতন ও ভাতা দেয়ায় (উজির-দূতের টি-পার্টি আর ককটেল পার্টি দেয়ায়), বড় বড় দালান-কোঠা তৈরী করায়, লড়াই সংগ্রামের জন্য গোলা বারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করায় এবং এ ধরনের অসংখ্য অর্থহীন কাজে গরীবদের রক্ত পানি করে উপর্জিত অর্থ-সম্পদ নির্বিচারে খরচ করছে৷ সুদখোর-মহাজন, জমিদার, রাজা এবং সরদার উপাধি প্রাপ্ত এবং উপাধি প্রার্থীর রাজন্যবর্গ, গদিনশীন পীর ও পুরোহিত, সিনেমা কোম্পানীর মালিক, মদ ব্যবসায়ী, অশ্লীল পুস্তক-পত্রিকা প্রকাশক ও বিক্রেতা এবং জুয়াড়ী প্রভৃতি অসংখ্য লোক আজ আল্লাহর সৃষ্ট অসহায় মানুষের জান-মাল, ইজ্জত-আবরু, চরিত্র ও নৈতিকতা সবকিছু ধ্বংস করে ফেলছে ৷ কিন্তু তাদেরকে বাধা দেবার কেউ নেই কেন? এজন্য যে, রাষ্ট্রযন্ত্র বিপর্যস্ত হয়েছে, শক্তিমান লোকেরা নিজেরাই ভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তারা নিজেরা তো যুলুম করেই, পরন্তু অন্যান্য যালেমকেও সাহায্য করে ৷ মোটকথা দেশে দেশে যে যুলুমই অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার একমাত্র কারণ এই যে, সাম্প্রতিক সরকার এরই পক্ষপাতী এবং নিরবে সহ্য করে ৷

এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে আশা করি একথাটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সমস্ত বিপর্যয়ের মূল উৎ‌স হচ্ছে হুকুমতের খারাবী ৷ মানুষের মত ও চিন্তার খারাপ হওয়া, আকীদা বিকৃত হওয়া, মানবীয় শক্তি, প্রতিভা ও যোগ্যতার ভ্রান্ত পথে অপচয় হওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক নীতি-প্রথার প্রচলন হওয়া, যুলুম, না-ইনসাফী ও কুৎসিত কাজ-কর্মের প্রসার লাভ হওয়া এবং বিশ্বমানবের ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রভৃতি সবকিছুরই মূল কারণ একটি এবং তা এই যে, সমাজ ও সরকারের নেতৃত্ব, শক্তি সবই আজ অনাচারী ও দুরাচারী লোকদের হাতে চলে গেছে। আর শক্তি ও সম্পদের চাবিকাঠি যদি খারাপ লোকদের হাতে থাকে এবং জীবিকা নির্বাহের সমস্ত উপায়ও যদি তাদেরই করায়ত্ব হয়ে থাকে তবে শুধু যে তারাই আরও খারাপ হয়ে যাবে তাই নয় বরং সমগ্র দুনিয়াকে আরও অধিক ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে, তাদের সাহায্য ও সমর্থনের সর্বব্যাপী বিপর্যয় আরও মারাত্মকভাবে জেগে উঠবে ৷ বস্তুতঃ তাদের হাতে শক্তি থাকা পর্যন্ত আংশিক সংশোধনের জন্য হাজার চেষ্টা করলেও তা সফল হতে পারে না, একথা একেবারে সুস্পষ্ট ৷

এ বুনিয়াদী কথাটি বুঝে নেয়ার পর মূল বিষয়টি অতি সহজেই বোধগম্য হতে পারে৷ মানুষের দূরবস্থা দূর করে এবং আসন্ন ধ্বংস থেকে তাদেরকে রক্ষা করে এক মহান কল্যাণকর পথে পরিচালিত করার জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সরকারের কর্মনীতিকে সুসংবদ্ধ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ হতে পারে না ৷ একজন সাধারণ বু‌দ্ধির মানুষও একথা বুঝতে পারে যে, যে দেশের লোকদের ব্যভিচার করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে সেখানে ব্যভিচারের বিরুদ্ধে হাজার ওয়াজ করলেও তা কিছুতেই বন্ধ হতে পারে না ৷ কিন্তু রাষ্ট্রশক্তি দখল করে যদি ব্যভিচার বন্ধ করার জন্য বল প্রয়োগ করা হয়, তবে জনসাধারণ নিজেরাই হারাম পথ পরিত্যাগ করে হালাল উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হবে ৷ মদ, গাঁজা, সুদ, ঘুষ, অশ্লীল সিনেমা-বায়স্কোপ, অর্ধনগ্ন পোষাক, নৈতিকতা বিরোধী শিক্ষা এবং এ ধরনের যাবতীয় পাপ প্রচলনকে নিছক ওয়াজ-নসিহত দ্বারা বন্ধ করতে চাইলে তা কখনও সম্ভব হবে না ৷ অবশ্য রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করে বন্ধ করে চাইলে তা কখনো সম্ভব হবে না। যারা জনসাধারণকে শোষণ করে এবং তাদের চরিত্র নষ্ট করে, তাদেরকে শুধু মৌখিক কথা দ্বারা লাভজনক কারবার থেকে বিরত রাখা যাবে না ৷ কিন্তু শক্তি লাভ করে যদি অন্যায় আচরণ বন্ধ করতে চেষ্টা করা হয় তবে অতি সহজেই সমস্ত পাপের দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে ৷ মানুষের শ্রম, মেহনত, সম্পদ, প্রতিভা ও যোগ্যতার এই অপচয় যদি বন্ধ করতে হয় এবং সেগুলোকে সঠিক ও সুস্থ পথে প্রয়োগ করতে হয়, যুলুম বন্ধ করে যদি বিচার-ইনসাফ কায়েম করতে হয়, দুনিয়াকে ধ্বংস এবং ভাঙ্গনের করাল গ্রাস ও সর্বপ্রকার শোষণ থেকে রক্ষা করে মানুষকে যদি বাঁচাতে হয়, অধঃপতিত মানুষকে উন্নত করে সমস্ত মানুষকে যদি সমান মান-সম্মান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি দিয়ে প্রকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হয় তবে শুধু মৌখিক ওয়াজ নসীহত দ্বারা এ কাজ কিছুতেই সম্ভব হতে পারে না ৷ অবশ্য এ জন্য যদি রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করা হয়, তবে তা খুবই সহজে সম্পন্ন হতে পারে ৷ অতএব এতে আর কোন সন্দেহ নেই যে, সমাজ সংস্কারের কোন প্রচেষ্টাই রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ ছাড়া সাফল্যমণ্ডিত হতে পারে না ৷ একথা আজ এতই সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এটা বুঝার জন্য খুব বেশী চিন্তা-গবেষণার আবশ্যক হয় না ৷ আজ দুনিয়ার বুক থেকে প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি ফেতনা-ফাসাদ দূর করতে চাইবে এবং দুনিয়ার মানুষের দুরাবস্থা দূর করে শান্তি এবং সমৃদ্ধি স্থাপন করতে অন্তর দিয়ে কামনা করবে তার পক্ষে আজ শুধু ওয়ায়েজ ও উপদেশদাতা হওয়া একেবারেই অর্থহীন ৷ আজ তাকে উঠতে হবে এবং ভ্রান্ত নীতিতে স্থাপিত সরকার ব্যবস্থাকে খতম করে দিয়ে, ভ্রান্ত নীতি অনুসারী লোকদের হাত থেকে রাষ্ট্রশক্তি কেড়ে নিয়ে সঠিক নীতি এবং খাঁটি (ইসলামী) নীতির রাষ্ট্র ও সরকার গঠন করতে হবে ৷

এ তত্ত্ব বুঝে নেয়ার পর আর এক কদম সামনে অগ্রসর হোন৷ একথা ইতিপূর্বে প্রমাণিত হয়েছে যে, দুনিয়ার মানুষের জীবনে যত কিছু খারাবী ও অশান্তি প্রসারিত হচ্ছে, তার মূলীভূত কারণ হচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকারের ভ্রান্তি৷ এবং একথাও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, সংশোধন যদি করতে হয়, তবে এর মূল শিকড়ের সংশোধন করতে হবে সর্বাগ্রে ৷ কিন্তু প্রশ্ন এই যে, স্বয়ং রাষ্ট্র ও সরকারের দোষ-ত্রুটির মূল কারণ কি এবং কোন্‌ মৌলিক সংশোধনের দ্বারা সেই বিপর্যয়ের দুয়ার চিরতরে বন্ধ করা যেতে পারে?

এর একমাত্র জবাব এই যে, আসলে মানুষের উপর মানুষের প্রভুত্বই হচ্ছে সকল বিপর্যয়ের মূল কারণ ৷ অতএব সংশোধনের একমাত্র উপায় স্বরূপ মানুষের উপর থেকে মানুষের প্রভুত্ব খতম করে দিয়ে আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েম করতে হবে৷ এতবড় প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব শুনে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বস্তুতঃ এই প্রশ্নের জবাব সম্পর্কে যতই খোঁজ ও অনুসন্ধান করা হবে, এই একটি মাত্র কথাই এর সঠিক জবাব হতে পারে বলে বিবেচিত হবে৷

একটু চিন্তা করে দেখুন, যে দুনিয়ায় মানুষ বাস করে তা আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টি করেছেন, না অন্য কেউ? পৃথিবীর এই মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, না অন্য কেউ? মানুষের জীবন যাত্রা নির্বাহের এ সীমাসংখ্যাহীন উপায়-উপাদান আল্লাহ্ সংগ্রহ করে দেন, না অন্য কোন শক্তি? এ প্রশ্নগুলোর একটি মাত্র উত্তরই হতে পারে এবং এছাড়া অন্য কোন উত্তর বস্তুতঃই হতে পারে না যে, পৃথিবীর মানুষ এবং এ সমস্ত দ্রব্য-সামগ্রী একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই সৃষ্টি করেছেন৷ অন্যকথায় এ পৃথিবী আল্লাহর, ধন-সম্পদের একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ, মানুষ একমাত্র আল্লাহরই প্রজা ৷ এমতাবস্থায় আল্লাহর রাজ্যে অপরের হুকুম চালাবার কি অধিকার থাকতে পারে? আল্লাহর 'প্রজা' সাধারণের উপর আল্লাহ ছাড়া অন্যের রচিত আইন কিংবা স্বয়ং প্রজাদের রচিত আইন কি করে চলতে পারে? দেশ ও রাজ্য হবে একজনের আর সেখানে আইন চলবে অপরের ৷ মালিকানা হবে একজনের আর মালিক হয়ে বসবে অন্য কেউ? প্রজা হবে একজনের আর তার উপর আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে অন্য কারো? মানুষের সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি একথা কেমন করে স্বীকার করতে পারে? বিশেষত এ কথাটাই প্রকৃত সত্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ৷ আর যেহেতু এটা প্রকৃত সত্যের সম্পূর্ণ খেলাপ, তাই যখনই এবং যেখানেই এরূপ হয়েছে সেখানে তারই পরিণাম অত্যন্ত মারাত্মক হয়েছে ৷ যেসব মানুষ আইন প্রণয়ন ও প্রভুত্ব করার অধিকার লাভ করে তারা নিজেরা স্বাভাবিক মূর্খতা ও অক্ষমতার দরুনই নানারূপ বিরাট বিরাট ভুল করতে বাধ্য হয় ৷ আবার অনেকটা নিজেদের পাশবিক লালসার বশঃবর্তী হয়ে ইচ্ছা করে যুলুম ও অবিচার করতে শুরু করে ৷ তার প্রথম কারণ এই যে, মানবীয় সমস্যা ও ব্যাপার সমূহের সুষ্ঠু সমাধান ও পরিচালনার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় নিভুর্ল নিয়ম-কানুন রচনা করার মত জ্ঞান-বুদ্ধি এবং বিদ্যাই তাদের থাকে না ৷ দ্বিতীয়তঃ তাদের মনে আল্লাহর ভয় এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার আতঙ্ক আদৌ থাকে না বলেই তারা একেবারে বল্গাহারা পশু হয়ে যায় এবং এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশী মারাত্মক ৷ যে মানুষের মনে আল্লাহর ভয় একবিন্দু থাকবে না এবং কোন উচ্চতর শক্তির কাছে জবাবদিহি করার চিন্তাও যার হবে না; বরং যার মন এই ভেবে নিশ্চিন্ত হবে যে, 'আমার কাছে কৈফিয়ত চাইতে পারে এমন কোন শক্তি কোথাও নেই' -এ ধরনের মানুষ যখন শক্তি লাভ করবে, তখন তারা যে বল্গাহারা হিংস্র পশুতে পরিণত হবে তাতে আর সন্দেহ কি? একথা বুঝার জন্য খুব বেশী বুদ্ধি-জ্ঞানের আবশ্যক করে না ৷ এসব লোকের হাতে যখন মানুষের জীবন-প্রাণ এবং রিযিক ও জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় জিনিসের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব এসে পড়বে, যখন কোটি কোটি মানুষের মস্তক তাদের সামনে অবনমিত হবে, তখন তারা সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের আদর্শ রক্ষা করে চলবে এমন আশা কি কিছুতেই করা যায়? তারা পরের হক কেড়ে নিতে, হারাম উপায়ে ধন লুন্ঠন করতে এবং আল্লাহর বান্দাহগণকে নিজেদের পশু বৃত্তির দাসানুদাস বানাতে চেষ্টা করবে না, এ ভরসা কিছুতেই করা যেতে পারে না ৷ এমন ব্যক্তি নিজেরা সৎপথে থাকবে এবং অন্য মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে, এমন কোন যুক্তি আছে কি? কখনও নয় ৷ মূলতঃই তা সম্ভব হতে পারে না, হওয়া বিবেক-বুদ্ধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী৷ হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতা এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে৷ বর্তমান সময়েও যাদের মনে অল্লাহর ভয় ও পরকালের জবাবদিহির আতঙ্ক নেই, তারা শক্তি ও ক্ষমতা লাভ করে কত যুলুম, বিশ্বাসঘাতকতা ও মানবতার চরম শত্রুতা করতে পারে, তার বাস্তব প্রমাণ চোখ খুললেই দেখতে পাওয়া যায় ৷






পেজ-ভিউ

৩০ লাখের তেলেসমাত - জহুরী

আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক নিহত হয়েছে আর ২ লাখ নারী সতীত্ব হারিয়েছে - এই সংখ্যাদ্ব্য় বহুল আলোচিত; কিন্তু পরিকল্পিত অনুমানের দুষ্ট মগজ থেকে সৃষ্ট। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে ফেলার এই প্রচেষ্টা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের এতবড় গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্যকে সঠিকভাবে জানার ব্যাপারে যে অলসতা, তাকে জাতীয় লজ্জ্বা ছাড়া আর কি বলা যায়! আমি এই বইয়ে ধুম্রজাল থেকে সত্যকে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছি এবং ভুলকে ভুল বলে প্রমাণের চেষ্টা করেছি। এ জন্য ৩০ লাখ সংখ্যাকে এক তেলেসমাত বলেছি।

আসহাবে রাসূলের জীবনকথা


(১) সাহাবা কারা ?

সাহাবা শব্দটি আরবী ভাষার “সুহবত” শব্দের একটি রুপ। একবচনে সাহেব ও সাহাবী এবং বহুবচনে সাহাবা ব্যবহৃত হয়। আভিধানিক অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর, একসাথে জীবনযাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় সাহাবা শব্দটি দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বুঝায়।


(২) সাহাবাদের মর্যাদা

সাহাবীদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার স্তর থাকতে পারে, কিন্ত পরবর্তী যুগের কোন মুসলমানই, তা তিনি যত বড় জ্ঞানী, গুনী ও সাধক হোন না কেন কেউই একজন সাধারন সাহাবীর মর্যাদাও লাভ করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমা একমত।

টেম্পলেট কাষ্টমাইজেশন - তরঙ্গ ইসলাম | তরঙ্গ ইসলাম